ট্যাক্স আপডেট: যা জানা জরুরি! 🚀
বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়মগুলো সহজভাবে বুঝে নিন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ব্যক্তি করদাতারা আশা করছিলেন করমুক্ত সীমা বাড়বে। যদিও সেই সীমা ৳ ৩,৫০,০০০ টাকাই রয়ে গেছে, তবুও বাজেটে করের ধাপ এবং হারে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আগে সর্বোচ্চ ২৫% আয়কর দিতে হতো, যা এখন বেড়ে হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০%। তবে চিন্তার কিছু নেই! কিছু করদাতার জন্য নতুন নিয়মে করের বোঝা বরং কমবে। আসুন, দেখে নিই এই পরিবর্তনগুলো কী।

কর ধাপ ও হার পরিবর্তন

নতুন বাজেটে দুইটি কর ধাপে ৳ ১,০০,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে, যা মোট ৳ ২,০০,০০০ টাকার ওপর সুবিধা দেবে। এতে করে আপনার করের পরিমাণ কমতে পারে। নিচে গত বছরের এবং এবারের প্রস্তাবিত করহারের তুলনা দেওয়া হলো:

গত বছরের করহার
প্রথম ৳ ৩,৫০,০০০ টাকা০%
পরবর্তী ৳ ১,০০,০০০ টাকা৫%
পরবর্তী ৳ ৩,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৳ ৪,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৳ ৫,০০,০০০ টাকা২০%
অবশিষ্ট করযোগ্য আয়ের উপর২৫%
প্রস্তাবিত নতুন করহার
প্রথম ৳ ৩,৫০,০০০ টাকা০%
পরবর্তী ৳ ১,০০,০০০ টাকা৫%
পরবর্তী ৳ ৪,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৳ ৫,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৳ ৫,০০,০০০ টাকা২০%
পরবর্তী ৳ ২০,০০,০০০ টাকা২৫%
অবশিষ্ট করযোগ্য আয়ের উপর৩০%

খেয়াল করে দেখুন, ১০% এবং ১৫% এর ধাপগুলো এখন ৳ ১,০০,০০০ টাকা করে বেড়েছে। এর ফলে যাদের করযোগ্য আয় ৳ ৪,৫০,০০০ টাকার বেশি, তারা মোট ৳ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কর সাশ্রয় করতে পারবেন! তবে, যাদের বার্ষিক আয় ৳ ৩৮,৫০,০০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে, কেবল তারাই সর্বোচ্চ ৩০% করহারের আওতায় পড়বেন।

বিলম্ব ফি গণনায় পরিবর্তন

আরেকটি দারুণ খবর হলো, রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব হলে যে ফি দিতে হতো, সেখানে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে মাসিক ৪% হারে বিলম্ব ফি গণনা করা হতো এবং তা মোট আয়করের উপর প্রযোজ্য ছিল, এমনকি যদি আপনি অগ্রিম কর দিয়েও থাকেন।

এখন সেই হার কমে মাসিক ২% হয়েছে! 🎉

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখন বিলম্ব ফি গণনা করা হবে আপনার মোট কর থেকে উৎসে বা অগ্রিম দেওয়া কর বাদ দিয়ে যে অবশিষ্ট টাকা থাকে, তার উপর। অর্থাৎ, আর অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না!

এই পরিবর্তনগুলো আগামী ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে।